৫০ বছর পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখলেন মেয়ে

৫০ বছর পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখলেন মেয়ে
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল বাবা-মেয়ের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি। এরই মধ্যে বাবার মৃত্যুসংবাদ। শেষবারের মতো বাবাকে দেখার আকুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশে বসবাসকারী মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন। অবশেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় এ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

মৃত মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ১০০ বছরের বেশি। ছয় সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ায়।

প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর আগে ইসরাফিলের সঙ্গে বিয়ের পর বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন ফিরদৌসী। পরবর্তীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর বাবার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে দেখা কিংবা সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ হয়নি তার।

আরও পড়ুন

বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর শেষবারের মতো তাকে দেখার আকুতি জানান ফিরদৌসী। পরে বিজিবি ও বিএসএফের উদ্যোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় এই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

ফিরদৌসী খাতুন জানান, ‘প্রায় ৫০ বছর বাবাকে সরাসরি দেখতে পারিনি। সীমান্তের কারণে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। বাবাকে দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ বাবাকে দেখতে পেরেছি। কিন্তু এই দেখা যে শেষ দেখা হবে, তা কখনো ভাবিনি।’

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির মুজিবনগর সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন। ভারতের পক্ষে ছয় সদস্যের একটি দল উপস্থিত ছিল। দলটির নেতৃত্ব দেন এএসআই সুনীল কুমার।

বিজিবির মুজিবনগর সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন জানান, ‘সীমান্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা একটি পরিবারের এই মানবিক পরিস্থিতিতে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে মেয়েকে তার বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিষয়গুলোও আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad