ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল মনে করি। ওভারঅল নির্বাচনটা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর থেকে তিন দিনের ভিতরে যদি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার শপথ না পড়ান, তাহলে চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। এর বাইরে বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ, শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না।
জামায়াতে ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১১ দলীয় জোটের বক্তব্য আমরা শুনেছি। উনারা কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তড়িঘড়ি করে গেজেট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রযুক্তির যুগে স্মার্টলি কিভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায়, সেই ব্যবস্থাগুলো আমরা নিয়ে রেখেছিলাম। সেক্ষেত্রে আরও আগে গেজেট প্রকাশ করা গেলে ভালো হতো।’
ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে দেহরক্ষী হিসেবে অস্ত্রসহ একজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আনসারের কাছে সুরক্ষা অ্যাপ ছিল। যখন যেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সেলে তথ্যটি এসেছে। বহু সংখ্যক ড্রোন এঙ্গেজ রেখেছি, হেলিকপ্টার এঙ্গেজ রেখেছি, বডি ওর্ন ক্যামেরা রেখেছি। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা ছিল। এমন একটি পরিস্থিতিতে সবকিছু আয়নার মত পরিষ্কার।’
‘আমরা এখান থেকে কোনটা সত্য তথ্য, কোনটা মিথ্যা তথ্য সবগুলোই মনিটর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নির্বাচন কমিশন মনে করে, যখন যেই ঘটনাটি আমাদের দৃষ্টিতে এসছে আমরা শতভাগ সেটিকে এড্রেস করার চেষ্টা করেছি এবং সমাধান করেছি।’
১১ দলীয় জোটের পুর্নগণনার দাবি ইসি মানবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের দাবি বিচার বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আইন তাদেরকে এই সুযোগ দিয়েছে যে, যদি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোন অভিযোগ থাকে তারা সেটি হাইকোর্টকে জানাতে পারবেন। হাইকোর্ট সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
শেরপুর-৩ আসনের তফসিল কবে হবে জানতে চাইলে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো আপনারা স্টেপ বাই স্টেপ পেয়ে যাবেন। শেরপুরের নির্বাচনটাও আমাদের করতে হবে। কমিশন এখনো সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি।’


