ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি মতপার্থক্য ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমন উঁকি দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছি।’
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘যখন ২০২৪-এ আন্দোলন করেছিলাম, তখন আমাদের ভেতরে কোনো ভেদাভেদ বা মতপার্থক্য ছিল না। একটি মাত্র রক্তের রং ছিল, সেটি হলো লাল, যা আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারণ করেছিলাম। যদি এই মতপার্থক্য ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে দেশে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমন উঁকি দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছি। ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন রূপে, আকারে ও ভঙ্গিতে বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা সহজ ছিল না। আন্দোলনটি সফল হওয়ার পেছনে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল। নেতৃত্বের প্রথম পর্যায়ে ছিল ছাত্র-জনতা। রাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলনটি শুরু হলে এটি সাফল্যের মুখ দেখত না। কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো সামনে না থেকেও নেপথ্যে যে ভূমিকা রেখেছে, তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আবেগ ছিল। তবে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি সবসময় ধারণ করতে থাকলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে। আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সমালোচনা থাকবে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তবে যে লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা পূরণ হবে। বর্তমান প্রশাসন সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
এর আগে, জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি র্যালি ক্যাম্পাসের সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে শহীদদের স্মরণে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে মো. আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


