কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আটক তিনজনই সম্প্রতি অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় জড়িত বলে টেকনাফ থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আটক মানবপাচার চক্রের সদস্যরা হলেন—টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ কোনাপাড়া এলাকার ইসমাইল, দক্ষিণ পাড়ার ফারুক এবং সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকার ইব্রাহিম।
রোববার গভীর রাতে শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি সোমবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনদের কাছ থেকে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পাচারকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতভর অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নে সক্রিয় বড় মানবপাচার চক্রগুলোর মূল হোতা ও নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় আনা না গেলে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা কমবে না। এতে ভবিষ্যতে আবারও ট্রলারডুবির মতো ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল প্রায় ২৫০ জন যাত্রী সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ট্রলারডুবির ঘটনায় বহু মানুষ নিখোঁজ হন। পরে একটি বাংলাদেশি জাহাজ ভাসমান অবস্থায় নারীসহ নয় জনকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড পাচারকারী সন্দেহে ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করে।


