ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর জের ধরে বাংলাদেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের খবর উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে।
রয়টার্স
‘ছাত্রনেতার মৃত্যু ঘিরে অস্থিরতায় কেঁপে উঠল বাংলাদেশ’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যুবনেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন শহরে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে দেশটিতে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার একদিন পরই এই গুলির ঘটনা ঘটে। নির্বাচনে হাদি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন।

এ প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে মব সৃষ্টি করে ভাঙচুর, আগুন ও সহিংসতার তথ্য।
রয়টার্সের খবরে আরও বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা নিহত হাদির নামে আবেগঘন স্লোগান দিয়ে তার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত ও হামলাকারীদের দ্রুত বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। দেশজুড়ে সহিংসতা ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েনের কথাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
বিবিসি
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরের শিরোনাম- ‘বাংলাদেশে যুবনেতার মৃত্যুর পর সহিংসতা’।
খবরে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা যুব আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে ঢাকায় একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর মুখোশধারী হামলাকারীদের গুলিতে আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকার শাহাবাগ চত্বরে তার শত শত সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে কিছু বিক্ষোভকারী ঢাকার খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়।
আল জাজিরা
‘সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে বাংলাদেশি ছাত্র আন্দোলনের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যু’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদি, যিনি হত্যাচেষ্টায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও … হাদি তার আঘাতের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।’
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৩২ বছর বয়সী হাদি ছিলেন ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের একজন শীর্ষ নেতা। তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের কট্টর সমালোচক ছিলেন, সে দেশেই বর্তমানে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এনডিটিভি
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরের শিরোনাম- ‘ছাত্রনেতার মৃত্যুর পর উত্তাল বাংলাদেশ, গণমাধ্যম কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ’। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বাইরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। সেখানে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়।
এনডিটিভি জানায়, বিক্ষুব্ধরা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও কর্মীদের ভেতরে আটকে পড়ার খবরও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি গত শুক্রবার ঢাকায় নিজের নির্বাচনি প্রচারের সময় মুখোশধারী হামলাকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান।
প্রথমে হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।


