আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় কানাডার জনসংখ্যা হ্রাস

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় কানাডার জনসংখ্যা হ্রাস
কানাডায় উৎসবমুখর পরিবেশ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কানাডার জনসংখ্যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সেখানকার জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা অভিবাসননির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

বুধবার প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে কানাডার জনসংখ্যা শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখে। এ বছরের ১ জুলাই দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার।

কানাডার ইতিহাসে এর আগে কেবল ২০২০ সালে তিন মাসের মধ্যে জনসংখ্যা কমেছিল। তখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দেশ সীমান্ত বন্ধ রেখেছিল। অথচ এক বছর আগে, ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) তিন মাসে কানাডার জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার বেড়ে রেকর্ড তৈরি করেছিল।

চলতি বছরের জনসংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অটোয়া সরকার পড়াশোনার অনুমতিপত্র (স্টাডি পারমিট) দেওয়ার সংখ্যা সীমিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমন কমতে শুরু করে।

আরও পড়ুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে কানাডায় রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসী গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগ বাড়ে। অনেকের কাছে অভিবাসন ব্যবস্থা ‘অস্থিতিশীল’ হয়ে উঠেছে এমন ধারণার প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি দ্রুত নীতিগত পরিবর্তনের পথে যায়।

বর্তমানে কানাডার মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় দশমিক আট শতাংশই অস্থায়ী বাসিন্দা, যা আগের প্রান্তিকে ছিল সাত দশমিক তিন শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার হার ৫ শতাংশে নামানো হবে। এই লক্ষ্যে সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা বড় পরিসরে কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

সেই সঙ্গে স্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্থায়ী বাসিন্দা ৩ লাখ ৯৫ হাজার, ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার, এবং ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হবে।

কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শঁপেন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডা ‘অভিবাসীদের স্বাগত জানানো ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।’ ব্যাংক অফ মন্ট্রিয়ালের অর্থনীতিবিদ রবার্ট কাভচিচ বলেন, ‘কানাডায় একটি বড় জনসংখ্যাগত সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক গল্পগুলোর একটি।’

নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলবার্টা প্রদেশ ও নুনাভুত অঞ্চল ছাড়া কানাডার সব প্রদেশ ও অঞ্চলেই জনসংখ্যা কমেছে। আলবার্টা ও নুনাভুতের জনসংখ্যা শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad