ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের জামিন শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
আসামিরা হলেন মো. সারাফাত হোসেন, মো. শাফায়েত হোসেন শুভ, শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন বিজয়, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম এবং মো. ইমরান।
তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই সাইবার অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন।
গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় বিলাল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আজহারীর ভিডিও ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁত ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি করত। এসব ভুয়া ভিডিওতে আজহারীকে দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের গুণগান গাওয়ানো হতো। তারা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’ এবং ‘হালাল শপ’-সহ প্রায় ২৪টি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিল।
মূলত আজহারীর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে মানহীন পণ্য পাঠিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজহারী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে এই জালিয়াতি করছিল। বর্তমানে আসামিরা জেলহাজতে রয়েছেন এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


