রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় দালাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. যুবায়েরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আটককৃতদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি সদস্যদের বিষয়ে এখনো নিবিড় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন গ্রাহকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজেদের তত্ত্বাবধানে সরাসরি ফরম পূরণ এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া উচিত। সেবাগ্রহীতারা সচেতন হলে দালাল চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি নির্মূল করা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান বলেন, দালাল চক্র আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে এবং পার্শ্ববর্তী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া প্রার্থীদের পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ফরম সত্যায়ন, কাগজপত্র ঘাটতি, ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র, এমনকি টাকার বিনিময়ে ভেরিফিকেশন ছাড়া অতি দ্রুত পাসপোর্ট তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। পাসপোর্ট প্রার্থীরা তাদের প্রতারণায় রাজি না হওয়া পর্যন্ত নানাভাবে বিরক্ত করতে থাকেন। অল্প সময়ে পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হওয়ার পরও চক্রটি গণউপদ্রব চালাতে থাকে। সেই বিজ্ঞপ্তিটি নোটিশ বোর্ড ছাড়াও মাইকিং করে দালালদের উপদ্রব সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করা হলেও তাদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, আটকদের মধ্যে ছয়জনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এম মুবীন রহমান তাপস বলেন, ভবিষ্যতে র্যাব-২ এ ধরনের দালাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে।


