আগামীতে বছরজুড়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই আইন করে আয়কর রিটার্নের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হবে।
অবশ্য চলতি অর্থবছরেও একই সুযোগ থাকলেও তার কোনো নির্ধারিত সময় উল্লেখ করা হয়নি, বরং বারবার আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় বাড়িয়ে সবশেষ মার্চ মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে মঙ্গলবারই ব্যক্তি আয়কর বিবরণী দাখিলের শেষ দিন। তবে অনলাইনে আবেদন করা হলে আরও তিনমাস এ সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর রাজস্ব ভবনে আগামী অর্থবছরের প্রাক-বাজেট অনুষ্ঠানে সংস্থাটির এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার আইন করার চিন্তা করছি। প্রথম কোয়ার্টারে (প্রান্তিক) যারা রিটার্ন দেবেন তারা ইনসেন্টিভ বা রিবেট (প্রণোদনা) পাবেন। পরের কোয়ার্টারে স্বাভাবিক রেটে আয়কর দেবেন। তারপরের কোয়ার্টারে রেট একটু বাড়বে এবং সবশেষ কোয়ার্টারে আরেকটু বাড়বে।’
এক্ষেত্রে রেট বৃদ্ধি বলতে তিনি জরিমানা নাকি অন্যকিছু বুঝিয়েছেন তার ব্যাখ্যা করেননি।
এদিকে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে প্রাক-বাজেট অনুষ্ঠান। প্রথম দিন রেওয়াজ অনুযায়ী পত্রিকা মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবং টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কর জাল বাড়ানো নিয়ে (কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আয়, সম্পদ বা লেনদেনের তথ্য কম দেখানো বা গোপন করে আসল করের পরিমাণ কম দেখানো) এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স নেট বাড়ানোর জন্য কিছু নতুন নতুন সিস্টেম আনতে চাই, বিশেষ করে ভ্যাটের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক কাভারেজে নিয়ে আসার কথা। আমাদের ভ্যাট নেটটা অত্যন্ত ছোট এবং আমরা মার্জিনাল ভ্যাট দাতাদের জন্য কি ধরণের ব্যবস্থা রাখতে পারি।’
‘আমরা যেমন ইনকাম ট্যাক্সে আমরা যেটা করেছি, ২০১৪ সাল বা তার আগে থেকেই আমাদের করদাতাদের সংখ্যা খুব কম ছিল। করদাতা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক জায়গায় বলেছি আপনি যদি ই-টিন না থাকে অথবা আপনি রিটার্ন না দেন তাহলে আপনার এই এই সার্ভিসগুলো পাওয়া যাবে না। একই কাজ আমরা ব্যবসার জন্য করব এবার ভ্যাটের আইনে’, যোগ করেন আবদুর রহমান খান।
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে ১৪ লাখেরও কম টিআইএন ছিল। আজকে টিআইএনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৮ লাখে। এই উন্নতি হয়েছে শুধুমাত্র এই আইনি ধারাগুলো থাকার কারণে এবং সেটি পালনকে বাধ্যতামূলক করার কারণে।’
এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষায়, ‘একই কাজ যদি আমরা ভ্যাটের ক্ষেত্রে করতে পারি… আমাদের ভ্যাটেও পাঁচ লাখের বেশি রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ছিল, আমরা অনেক চেষ্টা-তদবির করে এখন আট লাখের মতো হয়েছে। এটা কমপক্ষে ৮০ লাখ হওয়ার কথা।’
‘এই বছর যেমন আমাদের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আমাদের ৬০ লাখ দোকানদার অনেক ভালো ব্যবসা করেছেন, প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তাহলে সেই লেনদেনের প্রভাব, আমার ভ্যাট কালেকশনে কই? নাই তো। এইজন্য আমরা এই জায়গাতে একটা বড় কাজ করব বিশেষ করে ভ্যাটের নেট বড় করার জন্য’, বলেন আবদুর রহমান।


