কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দীর্ঘ ১৮ বছর পর প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার দখল থেকে নিজেদের পৈতৃক জমি ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিক। উপজেলার টিএন্ডটি এলাকায় ব্যক্তি মালিকাধীন এই জমিটি দখল করে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। জমির এক অংশে নির্মাণ হয়েছিল আওয়ামী লীগের অফিস।
আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর গত শনিবার দুপুরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে জমির মালিক মাহফুজুল হক তার ভূমির দখল বুঝে নেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী মৌজার ২১ নম্বর জেএলভুক্ত এবং সাবেক ১০৪০ নম্বর খতিয়ানের ৬৫১ নম্বর দাগের মোট ২২ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল।
এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে কুড়িগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন জমির প্রকৃত মালিক মাহফুজুল হক। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কুড়িগ্রাম আদালতের সিনিয়র সিভিল সহকারী জজ (রৌমারী) মো. ফিরোজ কবির বাদীর পক্ষে রায় দেন। আদালতের এই রায় কার্যকরের অংশ হিসেবেই শনিবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কুড়িগ্রাম কোর্টের নাজির মো. গোলাম রহমান এবং কোর্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক ময়নুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে জমির সীমানা নির্ধারণ করে মাহফুজুল হকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বছরের পর বছর ধরে নিজ ভূমি থেকে বঞ্চিত থাকার পর আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এই উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, আদালতের গঠন করা কমিশনের মাধ্যমে উচ্ছেদের বিষয়টি থানাকে আগেভাগেই অবহিত করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কোর্টের নাজির ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জবরদখলকৃত জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই প্রকৃত মালিককে তার প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।


