কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তাকে বরখাস্তের আদেশ দেন তিনি। বন্ডিকে বরখাস্তের পর ট্রাম্প জানান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সাময়িকভাবে বিচার বিভাগ পরিচালনা করবেন।
হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প মনে করছিলেন বন্ডি তার সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। একই সঙ্গে এপস্টিন ফাইল প্রকাশে ধীরগতি ও ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি নিয়েও তার ওপর ক্ষোভ বাড়ছিল।
অন্যদিকে কুখ্যাত যৌন অপরাধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার নথি জনসম্মুখে প্রকাশের অনুমতি দেওয়ায় ট্রাম্পের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়ছিল। কাজেই তার দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বন্ডি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা যিনি সম্প্রতি বরখাস্ত হলেন। এর আগে গত ৫ মার্চ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে সামাজিক মাধ্যমে বন্ডিকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ উল্লেখ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তাকে ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দেন। জানান, বন্ডি শিগগিরই কোনো বেসরকারি খাতে যোগ দেবেন।

অন্যদিকে বন্ডি নিজেও এক বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করার কাজ করা তার জীবনের বড় সম্মান। তিনি আগামী এক মাস দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজ করবেন।
বন্ডিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হঠাৎই নেওয়া হয়নি। একাধিক সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরেই তার কাজে অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তাকে সরানোর জন্য ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকেও চাপ ছিল। বিকল্প হিসেবে পরিবেশ সংস্থার প্রধান লি জেলডিনের নামও বিবেচনায় ছিল।
বন্ডি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সফর, ইস্টার লাঞ্চ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ভাষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
সমালোচকরা বলছেন, বন্ডির সময়কালে বিচার বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং হোয়াইট হাউস থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রচলিত ধারা অনেকটাই ভেঙে দেন।
তবে তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয়ে ওঠে এপস্টিন ফাইল। এই নথি প্রকাশে গড়িমসি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও সমালোচনা আসে। প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের পরও বিতর্ক থামেনি; বরং অনেক তথ্য গোপন রাখা এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁস হওয়ায় নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়।
এই ইস্যু ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে, কারণ অতীতে এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে বন্ডিকে পরিবর্তনের ফলে বিচার বিভাগের কৌশলেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পবিরোধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার হতে পারে।


