অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নীলফামারীর আইসঢাল গ্রামের মো. রাকিবুল হোসেন (২৬) এবং রংপুরের মৌলভীপাড়া গ্রামের মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯)।
বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী একজন ওমানপ্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার পরিচিত একজন ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে রনি ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।
পরে রনি নিজেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোন, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ভিসা, আবেদন ও অন্যান্য খরচের কথা বলে টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে মোট এক লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরে আরও টাকা নেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাগ্নে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, রনি ইসলাম ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে নিজেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাকাউন্ট থেকেও যোগাযোগ করা হতো।
তদন্তে আরও জানা যায়, রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ ও স্থানান্তরে সহযোগিতা করতেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


