ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মতাদর্শভিত্তিক ইস্যুর তুলনায় পরিবারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতির প্রতি দেশের মানুষ বেশি সাড়া দিয়েছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে, মতাদর্শভিত্তিক প্রতিশ্রুতির সাফল্যও দেখা গেছে, তবে তা শুধু নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে
এ ছাড়া নির্বাচিত সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে চেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ দশমিত ৩ শতাংশ মানুষ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ।
রোববার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে অবস্থিত বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনোভিশন’। জরিপ পরিচালনায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সঙ্গে ছিল ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ ও ‘ব্রেইন’। ৬৪ জেলার ৫১৪৭ জন ভোটারের ওপর দৈবচয়ন পদ্ধতিতে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি তিনটি জরিপ প্রতিবেদন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ জানুয়ারিতে প্রকাশিত তাদের জরিপ প্রতিবেদনে তারা জানায়, জামায়াতের তুলনায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে বিএনপি। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, জামায়াত জোট ১৭ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে। জোটের শরিকদের ভোটসহ গণনা করায় ব্যবধানের হার কমে এসেছে।

জরিপে দেখা যায়, ভোটের আগে বিএনপির সমর্থকদের ৬৩ শতাংশ মনে করেছেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ৫৭ শতাংশ মনে করেছেন ‘হেলফ কার্ড’ ও ৬৬ শতাংশ মনে করেছেন ‘সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি’র জনমনে ভূমিকা রাখবে। ৫২ শতাংশ নারী ভোটার মনে করেছেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থকদের ৬৫ শতাংশ ইসলামি শাসনব্যবস্থা, ৪৩ শতাংশ আওয়ামী লীগের বিচার ও ২৮ শতাংশ ভারতবিরোধী রাজনীতিকে বড় ইস্যু হিসেবে মনে করেছেন।
এ ছাড়া বিএনপির বড় সাফল্যের পেছনে তাদের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং আওয়ামী লীগের ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
জরিপে দেখা গেছে, ভোটে বিএনপির দিকে ঝোঁকার কথা জানান আওয়ামী লীগের প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটার এবং জামায়াত জোটের দিকে ১৩ দশমিক ভোটার। বাকি ৪১ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন এবং ১১ শতাংশ ভোটার কোনো মতামতই প্রকাশ করেনি।
জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াত সরোয়ার বলেন, ‘শিক্ষিত-কর্মমুখী জনগোষ্ঠী এবং তরুণ প্রজন্ম সচেতন হয়ে উঠেছে। তাদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা গেছে এবার।’
ব্রেইন এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান জানান, ঢাকাসহ দেশের সিটি করপোরেশনভুক্ত আসনগুলোতে ভোটারদের মনস্তত্ত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে কোনো দল ভূমিধস জয় পেলে দেশের সব স্থানেই তারা অনেক ব্যবধানে জয় লাভ করতো। কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস জয় পেলেও সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকাগুলেতে ভোটের ব্যবধান খুবই কমে এসেছে। এমনকি জামায়াত ও এনসিপির মতো নতুন দলও এবার বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে এসব আসনে।


