ইমতিয়াজ বর্ষণ ও শার্লিন ফারজানাকে নিয়ে ২০২০ সালে মুক্তি পায় ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। করোনা মহামারীর মধ্যে খুব স্বল্প পরিসরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি দর্শক-বোদ্ধাদের প্রশংসা পায়। পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলও তখন বেশ আলোচনায় আসেন। তারই পরিচালনায় জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’ অবলম্বনে একই নামে উজ্জ্বল তার দ্বিতীয় সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এটি এবারের ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
মুক্তির ঘোষণার পরপরই তরুণ মজুমদার নামে একজন জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকা পেয়েছিল সিনেমাটি। তবে সেই অর্থে পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় পরে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হন তরুণ মজুমদার। নানা কারণে সিনেমাটিকে ঘিরে তার সঙ্গে পরিচালকের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, যা এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সি.আর মামলা নং-৩৩৬/২৫। যাতে বর্তমানে পরিচালক জামিনে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর সহ-প্রযোজক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তরুণ কান্তি মজুমদার মোট ৬১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু পরে তিনি সিনেমার নির্মাণ অগ্রগতি, ব্যয়ের হিসাব এবং সরকারি অনুদানের তথ্য জানতে চাইলে পরিচালক তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিনেমার মালিকানা ৫০-৫০ ভিত্তিতে ভাগাভাগির চুক্তি থাকলেও সেই শর্ত মানা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। গত ১২ এপ্রিল পরিচালক আত্মসমর্পণ করে ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন পান।
তরুণ মজুমদার আরও দাবি করেছেন, সিনেমার ব্যয়ের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। তার অভিযোগ, প্রায় ৬০ লাখ টাকার ভুয়া হিসাব দেখানো হয়েছে। এমনকি সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া আবেদনে তার নামও রাখা হয়নি, যদিও চুক্তি অনুযায়ী তিনি সিনেমাটির ৫০ শতাংশ মালিক। তিনি আরও বলেন, অসম্পূর্ণ ফুটেজ জোড়াতালি দিয়ে সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল কথা বলেছেন টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রথমতো আমি তো আদালত থেকে শুরু কোথাও বলিনি তার কাছ থেকে টাকা নিই নাই। তার সঙ্গে আমাদের ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাঝপথে ছবি থেকে সরে দাঁড়ান। কারণ হিসেবে জানান, তার স্ত্রী চান না, তিনি এতে যুক্ত থাকে। তিনি আমার কাছে ‘বন্ধুত্বের সম্পর্কের’ জায়গা থেকে কিছু টাকা তখন ফেরত চান।’
‘তখন আমি তাকে বলেছিলাম, আমাদের তো লাভ শেয়ার করার কথা। ছবির মাঝপথে টাকা ফেরত চাইলে কীভাবে তা দিবো?’
উজ্জ্বল আরও বলেন, ‘আদালতে তো তার নির্দেশনায় বলেছেন, ছবি মুক্তি দিয়ে কাগজ এবং হিসেবপত্র দিতে। আমরা কিন্তু ইতোমধ্যে সেন্সরে জমার কাগজ ও হিসেব আদালতে জমা দিয়েছি। সেন্সর সার্টিফিকেট দিতে পারি নাই, কারণ তখনও সার্টিফিকেট হাতে পাইনি। আমরা কীভাবে আদালতের বাইরে গেলাম?’
তিনি জানান, ‘বনলতা সেন’-এর সেন্সর সার্টিফিকেট স্বাক্ষর করা ১২ এপ্রিল। কিন্তু আমরা হাতে পেয়েছি ৭ মে। কারণ, তরুণ মজুমদার ৯ এপ্রিল বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে সে অভিযোগপত্রে তারিখ দেওয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর মেহেদী হাসান পিয়ালের মাধ্যমে তরুণ মজুমদার উজ্জ্বলের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চাইছেন বলেও জানালেন। উজ্জ্বলের বক্তব্য, এ প্রস্তাবনার পরে আমি শর্ত দিয়েছি তরুণকে সকল মিডিয়ায় লিখিত বক্তব্য দিতে হবে— উনি যে অভিযোগ এনেছেন তা ঠিক নয়। তাকে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তাকে এখনও আমি লাভ দিতে রাজি আছি।’
তরুণের অভিযোগ ও মামলা করার বিষয়কে ‘অসুস্থ চিন্তার মানুষের অকারণ আচরণ’ বলেন উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘আপনার কী মনে সেন্সর বোর্ড কাগজপত্র যাচাই বাছাই না করে আমাকে সার্টিফিকেট দিয়েছে?’
সমঝোতার প্রস্তাবনাটি নিজের তরফ থেকে যায় নি বলে জানালেন তরুণ মজুমদার। তিনি বললেন, ‘পিয়াল আমার পূর্ব পরিস্থিত। সে জিজ্ঞেস করেছিলো সমঝোতা চাই কিনা। আমি বলেছি, হ্যাঁ তো চাই। ব্যস, এতটুকুই।’
এদিকে সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দিন এ ব্যাপারটি, তাদের দুজনের বলে দাবি করে বলেন, ‘বোর্ড সকল নিয়ম মেনেই সার্টিফিকেট দিয়েছে।’
‘বনলতা সেন’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, মাসুমা রহমান নাবিলা, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রুপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ, সুমাইয়া খুশি প্রমুখ।


