দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে গণভোট: রিজওয়ানা

দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে গণভোট: রিজওয়ানা
রোববার বিকালে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিনিময় সভায় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে আসন্ন গণভোট’, এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতেই গণভোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়ন এবং দেশের টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণভোটে “হ্যাঁ” দেওয়া প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। এই গণভোট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

রোববার বিকালে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এক দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে দ্বিতীয় ভোটটি দেওয়া হবে, সেটিই হচ্ছে গণভোট।

তিনি বলেন, ‘এই গণভোট বাংলাদেশের ক্ষমতার যে বাঁক রয়েছে, সেটিকে শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সময়। স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র মূলত ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। এবার সুযোগ এসেছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার।’

তিনি বলেন, সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

উন্নয়নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু রাস্তাঘাট, সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করাই উন্নয়ন নয়। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া, নিরাপদে কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন।’

আরও পড়ুন

গণভোটের বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণভোটে মোট ১১টি প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নেই জনগণের চাওয়া ও মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রণীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।’

দেশকে এগিয়ে নিতে পরিবর্তনের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,

‘এ দেশে আর কোনো একচ্ছত্র ক্ষমতার দানব তৈরি করতে না চাইলে গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।’

মতবিনিময় সভার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে উপদেষ্টার নেতৃত্বে গণভোট প্রচারে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। বেলুন উড়িয়ে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবু জাফর।

এ ছাড়া, বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার এবং নীলফামারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর। সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।

সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা জনগণকেই বুঝে নিতে হবে। এজন্য নিজেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন করার আহ্বান জানান তারা।

শেষে উপস্থিত সবাইকে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad