ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার স্বামী সাফিউল্লাহ ওরফে মহব্বতকে (৪৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম সাফিউল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিন আসামির পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন ছিল না।
গত শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে শনিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সাফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে। প্রাপ্ত তথ্যাদি অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ জুন ভোরে সাফিউল্লাহর তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল তাকে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে এবং পরে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সিট খালি না থাকায় পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঝিলিক তার দেখভালের জন্য হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার সকালে সাফিউল্লাহর বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসেন। সাফিউল্লাহ সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ঝিলিক তার ভাইকে ফোন করে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। এরপর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছোট বোন রেশমি আক্তারের সঙ্গে ঝিলিকের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর সাফিউল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে মারা গেছেন।
আসমা আক্তার ঝিলিক ছোট ও বড় পর্দায় বেশ কিছু কাজ করেছেন। তিনি চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘রংবাজ’ সিনেমার একটি চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।


