আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বিচারে আটক করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৫ সালের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর অক্টোবরের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনের কারণে মারা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ আহত এবং ৮১ জন নিহত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুমসহ ভয় ও দমনের যে পরিবেশ ছিল, তার কিছুটা শেষ হয়েছে মনে হলেও অন্তর্বর্তী সরকার হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করেছে।
সংস্থাটি বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ গণপিটুনি বা মব ভায়োলেন্স। বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে গণপিটুনি বা মব সহিংসতায় অন্তত ১২৪ জন নিহত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাসিনা পতন আন্দোলনের সময় পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে করে, যার ফলে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। তবে অভিযুক্ত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার সীমিত অগ্রগতি দেখিয়েছে।


