সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের তিন নান্দিনা গ্রামে ফুলজোড় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়নি। চারদিকে প্রমত্তা ফুলজোড় নদী ও বোয়ালিয়ার চর দিয়ে বেষ্টিত এই দ্বীপসদৃশ জনপদের হাজারো মানুষকে চলাচলের জন্য এখনো নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
শিক্ষা ও কৃষিতে এগিয়ে থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী ও কৃষকদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুধু একটি সেতুর অভাবে এই গ্রামের মেয়েদের বিয়ে করতে এসে বর ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
স্কুল শিক্ষার্থী অজিব জানান, প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয় এবং অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।
কৃষক ছালাম মিয়া বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ফসল ফলাই। কিন্তু নদী পার করে বাজারে নিতে যে খরচ ও ভোগান্তি হয়, তাতে লাভের বড় অংশই শেষ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে কম দামে পাইকারদের কাছে ফসল বিক্রি করতে হয়। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন, ভোট শেষ হলে আর খবর থাকে না।’
সাহেবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী জিহাদ জানান, তিন নান্দিনায় একটি সেতু হলে আশপাশের এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিন নান্দিনা রশিদিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে আমরা একটি সেতুর দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। কিন্তু আমাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি।’
নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, তিন নান্দিনা গ্রামটি যোগাযোগের দিক থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম জানান, দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে তিন নান্দিনা গ্রামের পাশে ফুলজোড় নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে একই নদীর সাহেবগঞ্জ-কে.সি. ফরিদপুর এলাকায় একটি সেতুর কাজ চলমান থাকায় তিন নান্দিনায় সেতু নির্মাণের গুরুত্ব কিছুটা কম বিবেচিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’


