রান্নার স্বাদ বাড়াতে আদার জুড়ি নেই। পাশাপাশি ঘরোয়া চিকিৎসাতেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে আদা। দেশে চাহিদা বাড়ায় এবার আদা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অল্প জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন সিরাজগঞ্জের অনেক কৃষক।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের ধিতপুর আলাল গ্রামের কৃষক মো. শাহাদাত হোসেন ১০ শতক জায়গায় ৬০০ বস্তায় বারি-২ জাতের আদা চাষ করেছেন। গত বছর খুব একটা লাভ না হলেও চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় ভাল দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। এতে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না, চাষের খরচও তুলনামূলক কম। বস্তা সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। পাশাপাশি রোগবালাইও কম হয়। ধান চাষের তুলনায় আদা চাষে ভালো আয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ছায়াযুক্ত জায়গায় সিমেন্ট বা প্লাস্টিকের বস্তায় সহজেই আদা চাষ করা যায়। প্রতি বস্তায় দোঁআশ মাটি, পচা গোবর, সার, ছাই ও কাঠের গুঁড়া দিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন রেখে মাটি চাষের উপযোগী করা হয়। এরপর ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের আদার কন্দ বপন করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যার পর ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যে আদা উত্তোলন করা যায়। প্রতিটি বস্তা থেকে ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম. নাসিম হোসেন জানান, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সদর উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে।
পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করা হচ্ছে। বেসরকারিভাবে আরও প্রায় ১০ হাজার বস্তায় আদা চাষ হচ্ছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নেই আদা চাষ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.কে.এম. মনজুরে মাওলা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন এবং ৬১ হাজার ২০০ বস্তায় ১২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন আদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বস্তায় আদা চাষ বেড়েছে। বস্তায় আদা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ পদ্ধতির দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তুলনামূলক কম জায়গা, সীমিত খরচ ও সহজ পরিচর্যার কারণে বস্তায় আদা চাষ কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে আদা রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষকরাও বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বস্তায় আদা চাষ তাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে দিন দিন এ পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।


