যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, থানার পাশে ‘বিস্ফোরক’ আতঙ্ক

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, থানার পাশে ‘বিস্ফোরক’ আতঙ্ক
Advertisement
Advertisement

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. মোল্লা শাহীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।

এ সময় মিছিলকে ঘিরে বিকট শব্দ এবং থানার পাশ থেকে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা ঝাড়ু ও ব্যানার হাতে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হরিরামপুর থানার দিকে এগিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, যুবদল নেতা মো. মোল্লা শাহীন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখল, লুটপাট এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদেই তারা ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

মিছিলটি পদ্মা নদীর ঘাটের দিকে যাওয়ার পথে কিছুদূর অগ্রসর হলে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ সময় মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে মিছিলটি কিছু সময়ের জন্য ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও আবার একত্রিত হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় মোল্লা শাহীন ও তার অনুসারীরা জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

একই দিনে থানায় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে মোল্লা শাহীনের অনুসারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষ—বিল্লাল খান ও মোল্লা শাহীন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ আলাদা মামলা হয়েছে। মামলা দুটি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। মামলার প্রতিবাদে থানায় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে মোল্লা শাহীন পক্ষ।

এদিকে হরিরামপুর থানার গেটের পাশ থেকে পেট্রোল বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বস্তুগুলো চকলেট পটকা হতে পারে।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, থানার আশপাশে একটি শব্দ শোনা গেলেও সেটি ককটেল বিস্ফোরণ ছিল না; চকলেট পটকা হতে পারে। থানার এক থেকে দেড়শ গজ দূরে একটি বোতলের ভেতর থেকে এ ধরনের কয়েকটি চকলেট পটকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, দুই পক্ষ কর্মসূচি পালন করলেও তা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের শব্দকে কেন্দ্র করে হরিরামপুরে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

তবে মোল্লা শাহীনের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad