সরকারের ভেতরে থেকে অনেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দলীয় নয়, কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, মুহাম্মদ ইউনূসের আশপাশের অনেকে একটি দলের পকেটে ঢুকে গেছে। সরকারের ভেতরে থেকে অনেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এটি মেনে নেবে না জনগণ। ফ্যাসিবাদের মতোই জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে।’
শুক্রবার বিকালে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। প্রতিবন্ধকতা তৈরিকারীদের চিহ্নিত করা হবে। নির্বাচনের জন্য এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়নি।’
জামায়াতের পাঁচ দফা দাবি হলো–জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা। সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। আর স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
তিনি বলেন, ‘এসব দাবি সরকার মেনে নিলে আগামীকালই নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেবে।’
রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগ স্টাইলে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী স্টাইলের কোনো নির্বাচন জনগণ আর হতে দেবে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ফ্যাসিবাদী ও তাদের দোসরদের দৃশ্যমান বিচার করবে এবং পাচারকৃত টাকা ফেরত আনবে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবে। এখন জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।’
পিআর নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষে গণভোটের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি, গণভোট দিন। জনগণ পিআরের পক্ষে আছে কি বিপক্ষে আছে। জনগণ যদি পক্ষে যায়, অন্তবর্তীকালীন সরকারকেও মানতে হবে। আর বিপক্ষে গেলে আমরা তা মেনে নেব।’
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘গোটা জাতি উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, জামায়াত নাকি নির্বাচন পিছাতে চায়। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জামায়াত সবার আগেই তিনশ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম নেই। যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও সংস্কারে বাধা দিচ্ছে, তারাই আসলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিছাতে চায়।’
চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে। সত্তুরের নির্বাচনের ম্যান্ডেট অস্বীকারের কারণে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ৩৬ জুলাই বিপ্লব এসেছে। এখন পুনরায় ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রোধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিবাদী দোসরদের কার্যক্রম অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। আধিপত্যবাদকে ভাড়া দিয়ে যারা রাজনীতি বা বুদ্ধিজীবীতা করছেন, তাদেরও বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করবে।’


