নারী ফুটবলারদের খাবার নিয়ে সমালোচনা যেন শেষ হচ্ছে না। বাফুফে ভবনের চার তলার ডর্মিটরিতে থাকেন জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়রা। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার প্রায়ই ক্যাম্পের খাবার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, দাবি করেন সঠিক পুষ্টির ঘাটতি আছে। তবে বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ এই অভিযোগ মানতে নারাজ।
সোমবার সংবাদমাধ্যমকে কিরণ বলেন, ‘পুষ্টিহীনতার কথায় আমি একমত হব না। এখানে যে খাবার দেওয়া হয়, সেটা পুষ্টিবিদের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী। অনেকেই বলেন পাঙাশ মাছ খাওয়ানো হয়, কিন্তু একদিনও তা দেওয়া হয় না। মেয়েরা যদি ঠিকমতো না খায়, তাহলে ৯০ মিনিট খেলতে পারবে না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওরা তো টানা ৯০ মিনিট ছন্দে খেলে। না খেয়ে খেলে? পাঙাশ মাছ খেয়ে খেলে? না, তাদের পুষ্টি আমরা নিশ্চিত করি। ছোটবেলা থেকে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেটা আমাদের হাতে বদলানো সম্ভব নয়।’
সিনিয়র দলের পর এবার অনূর্ধ্ব-২০ দলও প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে জায়গা করে নিয়েছে। বাফুফে চায়, দুই দলকে একসঙ্গে জাপানে পাঠিয়ে মাসব্যাপী প্রস্তুতি করাতে। এ নিয়ে কিরণ জানান, ‘জাপান ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আজ আবার মেইল করেছি। আমাদের পরিকল্পনা দুই দলকেই নিয়ে সেখানে ক্যাম্প করা।’
তবে জাপানের শীতল আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তাও আছে, কারণ মার্চে এশিয়ান কাপের সময় অস্ট্রেলিয়ায় থাকবে গরম। কিরণ বলেন, ‘আবহাওয়া নিয়েও ভাবছি। ডিসেম্বর থেকে জাপানে ঠান্ডা পড়ে, তাই সময়টা মিলিয়ে নিতে হবে।’
এশিয়ান কাপের আগে জাতীয় দলকে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলাতে চায় বাফুফে। কিরণ জানালেন, ‘অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বরের ফিফা উইন্ডোর জন্য থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সঙ্গে কথা চলছে। আশা করছি সেটাও হয়ে যাবে।’
জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলার আজ থেকে ছুটিতে যাচ্ছেন। লাওস থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডে যাবেন এবং ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরে অস্ট্রেলিয়া মিশন শুরু করবেন। অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব-২০ দল লাওস থেকে আজ রাত দেড়টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। তাদের জন্য হাতিরঝিলের মতো জমকালো সংবর্ধনার পরিকল্পনা নেই, যদিও কিরণ জানালেন, ‘আমার পক্ষ থেকে ছোট্ট একটি উপহার থাকবে।’
আগামী মার্চে সিনিয়র এশিয়ান কাপ অস্ট্রেলিয়ায় এবং এক মাস পর থাইল্যান্ডে হবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ। দুই টুর্নামেন্টেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থাকায় প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বাফুফে। তবে অর্থসংকট বড় বাধা হতে পারে বলে কিরণ মনে করছেন, ‘আমাদের অনেক পরিকল্পনা থাকে কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতায় তা বাস্তবায়ন হয় না। এই বছরে যেহেতু দুই টুর্নামেন্ট, তাই বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে।’


