‘এশিয়ার নোবেল’ পুরস্কার হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের উন্নয়নকর্মী রুনা খান। তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা‘ (এনজিও) ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক।
সোমবার র্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় চলতি বছরের ৬৮তম পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে।
প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়। এ বছর তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তার নামেই এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক বিমান দুর্ঘটনায় র্যামন ম্যাগসাইসাই মারা যান। একই বছর র্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়ার সূচনা হয়।
২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হতো। সেগুলো হল, সরকারি সেবা, জনসেবা, সম্প্রদায় নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সৃজনশীল যোগাযোগ শিল্প, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব।
‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ বিভাগটি ২০০০ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় চালু করা হয়। তবে ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ বিভাগ ছাড়া পুরস্কারটি আর কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।
এ বছরও এই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে এ বছরের র্যামন ম্যাগসাইসাই উৎসবের সূচনা হলো। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে এক সমাপনী আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের এই সম্মাননা দেওয়া হবে।
চলতি বছর রুনা খানের পাশাপাশি র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারের জন্য আরও দুজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন, সিঙ্গাপুরের টমি কোহ এবং মিয়ানমারের বো চি।
রুনা খান ২০০২ সালে সামাজিক উদ্দেশ্যেভিত্তিক সংস্থা (এসপিও) ‘ফ্রেন্ডশিপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে বালুচর বা চরে বসবাসকারী বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সেবায় একটি জাহাজ হাসপাতাল চালু করার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমের সূচনা করে।
সংস্থাটি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। রুনা খানের এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত, চরম দরিদ্র, বৈষম্যের শিকার এবং পরিবেশগত সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মর্যাদা ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।


