এইচপি দলের হয়ে সদ্য অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করেছেন স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। তিনি হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা তরুণ প্রতিভার প্রচলিত সংজ্ঞায় পড়েন না। তবে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার মনে করেন, এই রহস্যময় স্পিনার খেলায় ঠিক কতদূর যাবেন বা যেতে পারবেন, তা তার বয়স দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে বাশারের কাছে অন্যতম বড় এক উদাহরণ হলো মাইক হাসি।
অস্ট্রেলিয়ার টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রুবেল এর মধ্যেই নজর কেড়েছেন। ছয় ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২২ উইকেট। এর মধ্যে, তিনি ১৮ রান দিয়ে চার উইকেট, ২৫ রানে তিন, ১৫ রান দিয়ে আবারও চার, ৩০ রান দিয়ে তিন, ২১ রান দিয়ে পাঁচ এবং ১৫ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন।
গত বছরের বিপিএল থেকেই বাংলাদেশ রুবেলকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
বাশার ইএসপিএন ক্রিক ইনফো-কে বলেছেন, রুবেলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি নির্বাচকদের নজরে রয়েছেন।
‘গত বছরের বিপিএল থেকেই আমরা তাকে অনুসরণ করছি। তিনি বেশ রহস্যময় একজন বোলার, যিনি কিনা নিয়মিতই ভালো খেলেন। এর পাশাপাশি তিনি একজন ভালো ফিল্ডারও,’ বলেন বাশার।
রুবেলের বয়স তার এই দুর্নিবার চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন না এই নির্বাচক। নিজের এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি তাই মাইক হাসির উদাহরণ টেনেছেন। হাসি ৩০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন।
বাশার বলেন, ‘রুবেল তেমন তরুণ নন। কিন্তু মাইক হাসিও বেশ দেরিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছিলেন। রুবেলের পথেও বয়স বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’
রুবেলের খেলার বর্তমান পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে তার এই দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে, শুধুমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স দেখে কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতটা সফল হতে পারবেন, তা বিচার করা যায় না বলেও সতর্ক করেছেন বাশার।
তিনি বলেন, ‘শুধু ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্স দেখে একজন ক্রিকেটারের মান বোঝা কঠিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে, কিন্তু আরও উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে সেভাবে পারফর্ম করতে পারে না—এমন অনেক খেলোয়াড় আমরা দেখি বা ভবিষ্যতেও হয়তো দেখব।’
এ কারণেই নির্বাচকেরা আরও বেশি ‘এ’ দলের ক্রিকেট চান। বাশারের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা বোঝার আরও ভালো মাধ্যম হলো ‘এ’ দলের ম্যাচ।
তিনি বলেন, “এসব ম্যাচ ‘এ’ দলের হয়ে সফররত খেলোয়াড় এবং নির্বাচক— দুই পক্ষকেই তাদের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে। আমরা যখন বেশি ‘এ’ দলের ম্যাচ পাই, তখন নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা সম্পন্ন খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করা সহজ হয়। এরপর সেসব খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করা যায়।”
এই মুহূর্তে শীর্ষে থাকা রুবেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এই ধারাকে তিনি আন্তর্জাতিক সুযোগে পরিণত করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরীক্ষায় তিনি কেমন পারফর্ম করছেন তার ওপর।


