স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিচার করবে আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করব।’
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় শিশু অপ্রতিম হত্যার ঘটনা মর্মান্তিক। দেশবাসী এতে মর্মাহত। তার বয়স ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
‘যে মোবাইলের কারণে হত্যা করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে’, যোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সবশেষ হিসাবমতে, আগে তিনজন, আজ একজনসহ মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’
‘যে সমস্ত কিশোররা (সন্দেহভাজন আসামি)… তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়’, বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
হত্যার ঘটনায় সব আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ করানো যায় কি না, এগুলো নিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার ভেতরে সব আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করছে এবং নিহতের পোস্টমর্টেম করানো হয়েছে, তার (অপ্রতিম) দাফন হয়েছে আজকে।’
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহারিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ সময়েও সন্ধান না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করে পরিবার। ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চান তার মা নাহিদা বেগম।
একদিন পর শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


