রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। রোববার ভোরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুর কবরস্থানে এ ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এটিকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যারা মেনে নিতে পারে না, তারা এমন কাজ করেছে।
তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারাপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থানের কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম জানান, ফজরের আজান দিতে যাওয়ার সময় তিনি কবরস্থানে আগুন দেখতে পান। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে স্থানীয় লোকজন ও হেফজখানার শিক্ষার্থীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, ‘এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, এটি পরিকল্পিত।’
ঈদগাহ কবরস্থানের সেক্রেটারি ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত ঘৃণ্য। কমিটির পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হবে এবং প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
বাহাদুরপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সমশের আলী বলেন, ‘১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে লড়েছি। শেষ বয়সে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরেও আগুন দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমার ধারণা, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এর পেছনে।’
মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক বলেন, ‘মানুষের কবরেও আগুন দেওয়া হচ্ছে–এ কোন সমাজে আমরা বাস করছি। এর যথাযথ তদন্ত জরুরি।’
পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম খান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিজয়ের মাসে ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা আবারও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে নাশকতা চালাচ্ছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।’
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কবরস্থানের সভাপতি সজীব হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কবরস্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’


