পাঁচ বছর পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বহলার বিলে ফিরেছে ৩০ বছরের পুরোনো টিনের ডিঙির নৌকা বাইচ।
শুক্রবার শুরু হয়ে শনিবার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের আয়োজন।
শনিবার বিকালে ফাইনাল ঘিরে বিলের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। বৈঠার তালে ছোট টিনের ডিঙি ছুটে চলার দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন। দর্শকদের হর্ষধ্বনিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নন্দলালপুর ইউনিয়নের পুরাতন চড়াকোল এলাকার ময়ানখালী মোড়সংলগ্ন বহলার বিলে পুরাতন চোরাইকোল যুব সংঘ এ আয়োজন করে। আয়োজকেরা জানান, হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্য ধরে রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা ও তরুণদের খেলাধুলায় যুক্ত করাও তাদের লক্ষ্য।
আয়োজকেরা জানান, বহলার বিলে প্রায় ৩০ বছর ধরে টিনের ডিঙি নিয়ে নৌকা বাইচ হয়ে আসছে। নানা কারণে গত পাঁচ বছর এ আয়োজন বন্ধ ছিল। এবার দীর্ঘ বিরতির পর আবার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো।
স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, শুধু নন্দলালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা এতে অংশ নেন। এবার অংশ নেয় ১১টি দল। প্রতিটি নৌকায় ২০ থেকে ২৫ জন প্রতিযোগী ছিলেন।
পুরাতন চোরাইকোল যুব সংঘের সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাপ-দাদাদের এই বিলে টিনের নৌকা নিয়ে বাইচ করতে দেখেছি। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই দীর্ঘ বিরতির পর আবার আয়োজন করেছি।’
আয়োজক ওয়াশিক আকরাম প্রামাণিক বলেন, ‘গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে চাই।’
প্রতিযোগী আব্দুল আল মারুফ বলেন, ‘নৌকা বাইচ আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এ খেলায় অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে খেলোয়াড়দের আগ্রহ বাড়বে।’
দর্শনার্থী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘নৌকা বাইচ দেখতে অনেক মানুষ এসেছেন। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণ প্রজন্ম মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে থাকবে।’
তবে আয়োজন ঘিরে ভোগান্তির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান সড়কের একাংশ বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে পথচারী ও চালকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ নিয়ে শুক্রবার স্থানীয়দের সঙ্গে আয়োজকদের বাকবিতণ্ডাও হয়।
আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে আরও সুশৃঙ্খলভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকন। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী।
শেখ সাদী বলেন, ‘টিনের ডিঙি নৌকার এই বাইচ আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আয়োজনটি শুরু হওয়া আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য তুলে ধরতে নিয়মিত এমন আয়োজন প্রয়োজন।’
ফাইনালে ‘এ’ গ্রুপে একতা এক্সপ্রেস ও ‘বি’ গ্রুপে ঝংকার এক্সপ্রেস বিজয়ী হয়। দুই দলের প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে একটি করে বড় খাসি দেওয়া হয়।


