বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে অকার্যকর হয়ে পড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনরায় গঠনে তৎপর রয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দিতে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দুদকের পদ পেতে ৩০০-এরও বেশি মানুষ আবেদন করেছেন, যা নিয়ে বিস্মিত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই। প্রশ্ন উঠেছে, এই সংস্থায় কী এমন আকর্ষণ আছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে আবেদনের সংখ্যার তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা এখনো এসব যাচাই-বাছাই করিনি। এর মধ্যে আগের কেউ আছেন কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’
তবে চেয়ারম্যান হতে কতজন আবেদন করেছেন, কতগুলো আবেদন কমিশনার হতে পড়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
গত ২ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে বাছাই কমিটি। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয় ১৩ জুলাই।
যাচাই-বাছাই কমিটি শিগগিরই এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠন করা দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘কোন0 ধরনের প্রার্থী আবেদন করেছেন, তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা দুদকের নেতৃত্বের ভূমিকার সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ, আবেদনের শর্তাবলি সুনির্দিষ্টভাবে সার্চ কমিটি নির্ধারণ করে দিয়েছিল কি না, ইত্যাদি তথ্যের অনুপস্থিতিতে শুধু আবেদনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এটুকু বলা যায় যে অনেকে হয়তো দুদককে একটি আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবে দেখছেন।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলছেন, ‘অতীতে এসব (দুদক) পদ-পদবি ব্যবহার করে অনেকে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার অভিযোগ আছে। আবার একই সঙ্গে সরকারের কৃপা পাওয়া যায়।’
সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই এসব পদের জন্য বেশি আগ্রহ দেখান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত হবে সৎ ও যোগ্যদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়া। তা না হলে দুর্নীতি ঠেকানো যাবে না।’
মার্চ থেকে অকার্যকর
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানসহ দুদকের দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন। তখন থেকে সংস্থাটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
অন্তর্বর্তী সরকার দুদককে যেভাবে সাজাতে চেয়েছিল, বিএনপির ভাবনা তার চেয়ে আলাদা।
দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়িয়ে ২০২৫ সালে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়, তাতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা এবং কমিশনের সদস্য বাড়ানোর বিধান করা হলেও বিএনপি তা অনুমোদন করেনি। ফলে দুদক আইন আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
দুদকে নিয়োগে সুপারিশ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এ বছরের ২২ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বাছাই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৭ ধারার ৪ উপধারা অনুযায়ী, বাছাই কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিটি কমিশনারের শূন্যপদের বিপরীতে দুইজন করে ব্যক্তির নামের তালিকা করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে।
দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান টাইমসকে বলেছেন, ‘তিনশ’রও বেশি আবেদন পড়ার অর্থ হলো মানুষের মধ্যে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করার প্রবণতা বাড়ছে। কমিটির উচিত হবে এদের মধ্যে থেকে বাছাই করে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া।’


