সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি বন্ধ না করলে সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ‘তৌহিদি জনতা’ নামে স্বাক্ষর করা একটি চিঠিতে তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখির সমালোচনা করে এই হুমকি দেওয়া হয়।
গত ২৬ আগস্ট ভোরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হিড়িমদিয়া গ্রামের বাড়ির মূল ফটকের নিচে একটি খামে চিঠিটি রেখে যাওয়া হয় বলে ভেড়ামারা থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে জানিয়েছেন হাসান ইমাম রুবেল।
চিঠিতে তার লেখালেখিকে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করে এসব বন্ধ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে তাকে হত্যা করা হবে এবং তিনি প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবেন না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য রয়েছে এবং তার চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। দেশে এলে ঢাকায় তিনি কোথায় থাকেন এবং কী করেন, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চিঠিতে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত নাম হাসান ইমাম রুবেল এবং সরকারি নাম মো. হাসান ইমাম ইবনে হাবীব–দুটিই উল্লেখ করা হয়েছে। তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত জীবন এবং বিদেশে অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
জিডিতে হাসান ইমাম রুবেল বলেন, চিঠিটি কে বা কারা পাঠিয়েছে, তা তিনি জানেন না। কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতাও তিনি নিশ্চিত নন। তাই কাউকে দায়ী না করে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন।
চিঠির ভাষা ও হুমকির কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিটির উৎস ও প্রেরকদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো হামলা, শারীরিক ক্ষতি বা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
চিঠির শুরুতে ‘আল্লাহু আকবর’ লেখা ছিল এবং শেষে প্রেরক হিসেবে ‘তৌহিদি জনতা’ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এটিকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়।
ভেড়ামারা থানার ডিউটি অফিসার রশিদা খাতুন জিডিটি গ্রহণ করেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।
ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি মনির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব রাসেল এক বিবৃতিতে বলেন, মতপ্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত।
সংগঠনটি হুমকিদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হাসান ইমাম রুবেল ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য থানা ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম আরও বলেছে, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি বা হুমকির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি তার সদস্যদের পাশে থাকবে। হাসান ইমাম রুবেল সংগঠনটির সাবেক সভাপতি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেল ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তবে চিঠিটির প্রকৃত প্রেরক কে বা এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন বা গোষ্ঠী রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। চিঠিতে হাসান ইমাম রুবেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।


