মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং ঘিরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথই–এর মধ্যে চড় মারার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সামিয়া অথইয়ের ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পর বুধবার (৪ মার্চ) সকালে বিবৃতি দিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। তারা লিখেছে, ‘কোনো সদস্যের সাথে কোনো প্রকার জটিলতা বা মতভেদ সৃষ্টি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে অবহিত না করে উপরন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের আচরণবিধির পরিপন্থী।’
অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের ভাষ্য, এহেন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক আলোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া উচিত বলে আমরা বিশ্বাস করি। কেননা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা একতরফাভাবে উপস্থাপিত হলে তা একদিকে যেমন সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে পারে।
উল্লিখিত ক্ষেত্রে কোনো সদস্যের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। কেননা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করে, দোষী যে-ই হোন না কেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রায়াল’ বা জনমতের আদালত তৈরি না করে বা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার না করে বরং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফেসবুক লাইভে অথই অভিযোগ করেন, শুটিং চলাকালে একটি দৃশ্যে তার সহশিল্পী তানজিন তিশাকে চড় মারার কথা ছিল। গল্প অনুযায়ী তিশার চরিত্রটি মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিচালক দৃশ্যটি বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি আলতোভাবে চড় মারেন। কিন্তু সেই দৃশ্যের পর তানজিন তিশা পাল্টা তাকে চড় মারেন বলে দাবি করেন অথই। তার ভাষ্য, শুধু একবার নয়, ইউনিটের সবার সামনে একাধিকবার তাঁকে আঘাত করা হয়েছে।
অন্যদিকে তানজিন তিশার বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাই চরিত্রের প্রয়োজনে ঘটেছে। নাটকে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার আচরণ অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক। তাঁর দাবি, দৃশ্যের প্রয়োজনেই প্রতিক্রিয়াটি এসেছে এবং নাটকটি মুক্তি পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদার বলেন, চড়ের দৃশ্যটি স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী ছিল। দুজন শিল্পীই পরস্পরকে হালকাভাবে আঘাত করার কথা। তাঁর মতে, চড়টি জোরে লেগেছে কি না—এই বিষয়টি ঘিরেই ভুল–বোঝাবুঝির সূত্রপাত।
উল্লেখ্য, নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা চৌধুরী ও মীর রাব্বীসহ একাধিক শিল্পী। ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


