জামালপুরের ইসলামপুরে মোটরসাইকেলচালক হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ইসলামপুরের আগুনের চর এলাকার মো. জালাল মিয়া, মো. নুর ইসলাম ও মো. মোজাম্মেল হক।
সিআইডি জানায়, গত ২৬ আগস্ট জামালপুরের ইসলামপুর থানার নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৭ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নুর ইসলাম এবং গাজীপুর কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে ওই মোটরসাইকেলচালক তার স্ত্রী মোছা. তাহমিনা বেগমের সঙ্গে খাবার খেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইসলামপুরের চুংরাপাড়া এলাকার পুবেরবন্দে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে স্ত্রী মরদেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধীচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে ইসলামপুর থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি।
সিআইডি জানায়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় আসামিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তের একপর্যায়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিহতের মোটরসাইকেলে থাকা তিন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে জামালপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় পাঁচ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তিন ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডি। তদন্তে তাদের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জালাল মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং নুর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তাদের দুজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর নুর ইসলাম ও মোজাম্মেল হক হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সিআইডি জানিয়েছে, জবানবন্দিতে তিনজনই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি সূত্র।


