সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর দেশে ফেরত পাঠানো দুই ব্যক্তির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার কারণে সিঙ্গাপুর পুলিশের নজরে আসেন এবং সেখানে গ্রেপ্তার হন।
পরে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।’ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড, উদ্দেশ্য এবং কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বা বাংলাদেশের ক্ষতি করতে পারে—এমন কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান তিনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে কোনো নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কি না, জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়নের উৎস কারা এবং আন্তর্জাতিক কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে অবস্থানের সময় জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে সাহেদুল ইসলাম (৩৭) ও মো. রিশাদ তায়ানী (২৫) সিঙ্গাপুর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে গত ৮ জুলাই সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ তাদের বিমানে করে ঢাকায় পাঠায় এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও দুটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে এবং পরবর্তীতে দেশে ফেরত পাঠায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।


