চকোলেটপ্রেমীদের কাছে ‘ব্রেক’ বা ‘বিরতি’ মানেই ছিল এক টুকরো কিটক্যাট। কিন্তু এবার সেই বিরতি নেওয়ার বিষয়টি যেন একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছে কেউ। আর তাই সাধারণ কোনো বিরতি নয়, একেবারে ট্রাকবোঝাই কয়েক লাখ কিটক্যাট নিয়ে চম্পট দিয়েছে একদল চোর। চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনায় এখন বিশ্ব তোলপাড়।
নেসলের জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ডটি এখন তাদের ভক্তদের কাছে চকোলেটের মোড়ক স্ক্যান করে চোর ধরতে সাহায্য করার জন্য রীতিমতো আকুতি জানাচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ১২ মেট্রিক টন ওয়েফার চকোলেট গায়েব হয়ে গেছে, যার মধ্যে একক বারের সংখ্যা প্রায় চার লাখ ১৩ হাজার। ম্যানুফ্যাকচারিং সাইট থেকে পরিবহনের সময় এই বিশাল চালানটি নিখোঁজ হয়।
ঘটনাটি নিয়ে কিছুটা রসিকতা করে কোম্পানিটি বলেছে, তারা সবসময় মানুষকে ‘বিরতি’ নিতে বললেও কেউ একজন পুরো চালানটি নিয়ে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই বিশাল এক বিরতি দিয়ে ফেলেছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি ও অন্যান্য সূত্র জানায়, কিটক্যাট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাপ্লাই চেইন টিমের সাথে মিলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চুরির ঘটনায় সাধারণ ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কোম্পানিটি। বাজারে কিটক্যাট চকোলেটের সরবরাহেও কোনো ঘাটতি পড়বে না বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
এই অদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে কিটক্যাট এক অভিনব কৌশল নিয়েছে। যেহেতু প্রতিটি কিটক্যাটের মোড়কে আট ডিজিটের একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ নম্বর থাকে, তাই নিখোঁজ চকোলেটগুলো শনাক্ত করা অসম্ভব কিছু নয়। কোম্পানিটি অনলাইনে একটি বিশেষ ‘স্টোলেন কিটক্যাট ট্র্যাকার’ বা চুরি হওয়া কিটক্যাট শনাক্তকারী টুল চালু করেছে। সেখানে ক্রেতারা তাদের হাতে থাকা চকোলেটের কোডটি লিখে যাচাই করতে পারছেন সেটি চুরি হওয়া ব্যাচের কি না। যদি কোড না মেলে, তবে ব্যবহারকারীকে আরও বেশি করে চকোলেট চেক করতে এবং এই টুলটি অন্যদের সাথে শেয়ার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আর যদি কোড মিলে যায়, তবে সেই তথ্য কীভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে তার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কিটক্যাটের মূল দুশ্চিন্তা হলো এই পণ্যগুলো যেন ইউরোপের অনিয়ন্ত্রিত বা অবৈধ বাজারগুলোতে বিক্রি না হয়ে যায়।
ঘটনাটি এপ্রিল ফুল বা পয়লা এপ্রিলের আশেপাশে ঘটায় অনেকেই শুরুতে এটিকে স্রেফ ঠাট্টা মনে করেছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এটি কোনো রসিকতা নয়। বরং পণ্যবাহী একটি আস্ত ট্রাক ট্রানজিটের সময় নিখোঁজ হয়েছে।
ইন্টারনেটে এই ঘটনা নিয়ে বইছে হাসির রোল। কেউ বলছেন তারা এখন প্রতিটি কিটক্যাট এমনভাবে পরীক্ষা করছেন যেন তারা লটারির টিকিট খুঁজছেন। আবার কেউ কেউ মজার ছলে কাল্পনিক চরিত্র ‘ইস্টার বানি’কে এই চুরির জন্য দায়ী করছেন।
এই হুলুস্থুলে যোগ দিয়েছে ডমিনো’স পিজ্জা ইউকে’ও। তারা কিটক্যাটের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মজা করে বলেছে, তারা হয়তো কিটক্যাট ফ্লেভারের পিজ্জা বাজারে আনবে। যদিও পরে তারা পরিষ্কার করেছে এটিও একটি কৌতুক ছিল।
তবে কিটক্যাটের জন্য চুরির অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের চকোলেট চুরির একটি বড় ঘটনা সংবাদ শিরোনামে এসেছিল। নেসলের অধীনে কিটক্যাট ছাড়াও স্মার্টস, ক্রাঞ্চ এবং টোল হাউস কুকি ডোর মতো ব্র্যান্ডগুলো বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।
অন্যদিকে এই ডামাডোলের মধ্যেই কিটক্যাটের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি ‘মার্স ইনকর্পোরেটেড’ তাদের জনপ্রিয় এমঅ্যান্ডএম’স ব্র্যান্ডের কিছু নতুন ফ্লেভার বাজারে এনেছে। পিনাট বাটার সিনামন রোল, চেরি চকোলেট কাপকেক এবং লেমন মেয়াং পাইয়ের মতো নতুন সব স্বাদে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চাইছে তারা।
তবে আপাতত সবার নজর ওই নিখোঁজ চার লাখ কিটক্যাটের দিকেই। কিটক্যাট ভক্তদের হাতে এখন একটাই কাজ—ব্রেক নিন আর ব্যাচ নম্বর স্ক্যান করুন!


