সেনা কর্মকর্তাসহ ১৯ আইনপ্রণেতাকে সরিয়ে দিল চীন

সেনা কর্মকর্তাসহ ১৯ আইনপ্রণেতাকে সরিয়ে দিল চীন
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক রাজনৈতিক বৈঠক ‘টু সেশনস’ শুরুর আগে সামরিক কর্মকর্তাসহ ১৯ জনকে আইনপ্রণেতা তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, অপসারিতদের মধ্যে রয়েছেন- পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) স্থলবাহিনীর কমান্ডার লি চিয়াওমিং এবং সাবেক নৌবাহিনী কমান্ডার শেন জিনলং। এছাড়া আরও কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও প্রাদেশিক পর্যায়ের কর্মকর্তা তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের সাবেক পার্টি প্রধান সুন শাওচংও আছেন।

আগামী সপ্তাহেই টু সেশনসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগ মুহূর্তেই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ আইনপ্রণেতাদের অপসারণের ঘোষণা দিল দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেসের (এনপিসি)- স্থায়ী কমিটি। তবে ওই কর্মকর্তাদের অপসারণের নির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

গত কয়েক বছর ধরেই চীনের সামরিক বাহিনীতে উচ্চপর্যায়ে একাধিক শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেনাবাহিনীর নয়জন শীর্ষ জেনারেলকে অপসারণ করা হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে সবশেষ অভিযানে চীনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র ঝ্যাং ইউশিয়াকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব পদক্ষেপ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ।

আরও পড়ুন

২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শি জিনপিং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে তার শাসনের কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ‘টাইগারস অ্যান্ড ফ্লাইজ’ নামে পরিচিত এই অভিযানে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ—উভয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট শি সম্প্রতি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ‘এখনও গুরুতর ও জটিল’ অবস্থায় রয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই অভিযান মূলত শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে টু সেশনসে এনপিসির পাশাপাশি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা চাইনিজ পিপল’স পলিটিক্যাল কনসালটিভ কনফারেন্সের বার্ষিক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হবে।

৪ মার্চ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সরকার তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করবে। এতে আগামী সময়ের প্রধান নীতিগত লক্ষ্য ও বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হবে।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad