সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওর এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তাদের মৃত্যৃ হয়।
নিহতরা হলেন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে মকসুদ মিয়া (৩৫) ও বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণ পাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল সালাম (৬০), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৩৮) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪০)।
সুনামগঞ্জে নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের স্বজনরা দ্রুত মরদেহ নিয়ে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান পাঁচ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সোমবার বিকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে অন্যান্য কৃষকদের সাথে ধান কাটতে যান জমির উদ্দিন। এ সময় হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাতে জমির উদ্দিন আহত হলে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরেক কৃষকও একইভাবে নিহত হন।
এ ছাড়া একই সময় গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামে বাড়ি থেকে বের হয়ে বৈটাখালি নদীঘাট দিয়ে হাওরে যাওয়ার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে জমির হোসেন আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান বলেন, ‘বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও একজনকে মৃত ঘোষণার পর তার পরিবার দ্রুত হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যায়।’
এদিকে, হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে মকসুদ মিয়া ও আব্দুছ ছালাম নামে আরও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, সোমবার বিকালে নবীগঞ্জ উপজেলার গড়দার হাওরে জমিতে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মকসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়।
একই সময়ে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকার হাওরে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আব্দুল সালাম নামে এক কৃষকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
এ ছাড়াও বজ্রপাতে একই উপজেলার গড়পাড় গ্রামের সামরুজ মিয়া (৫০) নামে আরেকজন কৃষক আহত হয়েছেন। বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


