সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় এসিআই কোম্পানির শ্রমিকবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোছা. নাদিয়া খাতুন (২০) নামে এক তরুণী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে শিয়ালকোল ইউনিয়নের চণ্ডীদাসগাতি বাজার জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাদিয়া খাতুন উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল এলাকার মো. বাবলু শেখের মেয়ে। তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য কোচিং করছিলেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন সলঙ্গার ঘুরকা বেলতলা এলাকার মোছা. সুমাইয়া খাতুন (২৫) ও আনিসুর রহমান (৪০) এবং অটোরিকশাচালক মো. নজরুল ইসলাম (৪০)। সিএনজিতে থাকা দুই শিশু দুর্ঘটনার পর সুস্থ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জ রোড এলাকা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাওয়ার পথে এসিআই মিলগামী শ্রমিকবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, নাদিয়া খাতুনকে হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে সুমাইয়া খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে এনাময়পুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এদিকে সিএনজি মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, এসিআই কোম্পানির ওই শ্রমিকবাহী বাসটি আগেও একটি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। চালক ও হেলপারের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে দাবি করে এর তদন্ত ও নিরাপদ যানবাহন পরিচালনা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তারা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এসিআই কর্তৃপক্ষ বা বাসচালকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিব হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কারও গাফিলতি থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


