প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, সিফাতের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিফাত বেশ কিছুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তাকে গালিগালাজ করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় ৪ হাজার টাকা ও আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। বিল বেশি আসার অভিযোগ করে তিনি দুটি বিলের কাগজ দেখান।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো সমস্যা বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন কি না, তা এখনো যাচাই করেনি পুলিশ।
ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সিফাতের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো সমস্যা বা জটিলতা ছিল কি না, তা এখনো যাচাই করা হয়নি। তবে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সিফাতের যোগাযোগ ছিল। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’
এদিকে সিফাতকে নিজেদের কর্মী ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করে তার মুক্তি চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠন। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার রাতে থানায় যান এনসিপির গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মুহিম।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।


