গত তিন বছরে দেশে তৈরি পোশাক খাতের ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি কারখানা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্য জানতে চান, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর তালিকা, বন্ধের কারণ এবং এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কী?
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টিসহ মোট ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারির বিরূপ প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং ছোট ও মাঝারি কারখানায় বিদেশি ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়াও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতারা নিজেদের মনিটরিং কার্যক্রম সহজ রাখতে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে তুলনামূলকভাবে অনাগ্রহী। এতে এসব কারখানা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখা ও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা, ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি তৈরি পোশাক শিল্পকে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা হিসেবে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী।
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এসব তদারকি এবং আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।


