অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে পারেনি সংসদীয় বিশেষ কমিটি। বুধবার বিকালে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে অধ্যাদেশগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।
সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে কতটি সংসদে পাস হবে এবং কতটি বাতিল হবে তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি । তবে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশ পাসের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন বলে কমিটির একাধিক সদস্য জানান।
বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশই বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সব সংসদ সদস্যের কাছে অধ্যাদেশের কপি পাঠানো হয়েছে, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
বিশেষ কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে গুরুত্ব দিচ্ছি। জুলাই অভ্যুত্থানে যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি অধ্যাদেশ নিয়ে আমরা সবাই একমত হয়েছি এবং তা সংসদে আইন আকারে পাস করা হবে।’
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংবিধান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে কমিটি। অধিকাংশ অধ্যাদেশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে। ৩০ দিনের মধ্যে তা পর্যালোচনা করে চলতি অধিবেশনে সংসদে তোলা হবে।
সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সব অধ্যাদেশের যাচাই-বাছাই চলছে। বিশেষ করে সংবিধান ও জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সম্মানী ভাতা সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি সংশোধনী বিল আসবে, কোনটি গৃহীত হবে বা বাতিল হবে তা সংশ্লিষ্ট সচিবদের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত হবে।
শুক্রবার বৈঠকে ফের বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংসদ অধিবেশন ২৯ মার্চ থেকে শুরু হবে এবং এই অধিবেশনের পরে রাতে বিশেষ কমিটির বৈঠক হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম। ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই জাতীয় সংসদ অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩ অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করতে চায় সংসদীয় বিশেষ কমিটি বৈঠক। অধ্যাদেশগুলো ১০ এপ্রিলের মধ্যে পাস না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করেন। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হলে আইনি বৈধতা থাকবে না। তাই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ এবং আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় বসবে, চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।


