সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলের ক্ষেত। অনেকের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকেছে। বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কাজে যেতে না পেরে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
শুক্রবার সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠ, হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ একাধিক শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ-মাছখোলা সড়কে হাঁটু পানি জমেছে। ডুবে গেছে এই এলাকার অনেক ঘরবাড়ি, টয়লেট ও টিউবওয়েল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধ্যে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের বাসিন্দা সবুর গাজী বলেন, ‘বছরের পর বছর সাতক্ষীরার মানুষ বর্ষাকালে একই দুর্ভোগে পড়ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কাজই ঠিক মতো করেন না। আমরা ২০ বছর এখানে বসবাস করছি, হালকা বৃষ্টিতেই এই এলাকা তলিয়ে যায়। এই ভোগান্তি চলবে আরও অন্তত চার মাস।’
মাছখোলা গ্রামের গৃহবধূ শাহানারা বেগম বলেন, ‘রাতভর বৃষ্টিতে রান্না ঘরে পানি ঢুকেছে। আরেকটু বৃষ্টি হলে ঘরেও পানি ঢুকবে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছি।’
এদিকে, বৃষ্টিতে কাজ না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ভ্যানচালক কার্ত্তিক দাস জানান, বৃষ্টিতে লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। ভাড়া নেই। আয় না থাকায় চাল-ডালও কেনা বন্ধ।
একই আক্ষেপে দিনমজুর মোকছেদ বলেন, ‘দুইদিন ধরে ঘরে বসে আছি। কোনো কাজ নেই।’
সাতক্ষীরা আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত জানান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য খালগুলো খনন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খাল দিয়ে পানি সরানোর জন্য সকল ড্রেন সচল করে প্রাণসায়ের খালে যুক্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


