রংপুরে সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদলকে ‘অপহরণ’ ও ‘মব সৃষ্টি করে মারধরের’ মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
বুধবার রাত সোয়া ১টায় রংপুর মহানগরী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাগর নগরীর শালবন মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা।
এর আগে এ ঘটনায় সোমবার রাতে রতন মিয়া (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রংপুর সিটি করপোরেশনের তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার প্রধান মিজানুর রহমান মিজু, প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির শান্ত এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা তম্ময়কে বদলি করা হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাগর। তিনি রংপুর অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন আমলি আদালতের বিচারক রাশেদ হোসাইনের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের এবং জড়িতদের বিষয়ে জানিয়েছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির আবেদন করেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর লিয়াকত আলী বাদল দৈনিক সংবাদে ‘রংপুরে জুলাই যোদ্ধার নামে অটোর লাইসেন্স, পাঁচ কোটি টাকার বাণিজ্যের পাঁয়তারা’ শিরোনামে একটি সংবাদ লেখেন। ওই সংবাদের জেরেই তাকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।
এরপর রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আতাউর রহমান জানান, ‘রোববার নগরীর কাচারী বাজার এলাকা থেকে একুশে টেলিভিশন এবং দৈনিক সংবাদের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক লিয়াকত আলী বাদলকে “জুলাই যোদ্ধা” পরিচয়ে একদল যুবক সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তার করা নিউজ ভুল হয়েছে বলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার জন্য তার রুমের কাছে নিয়ে আটকে রাখে। পরে অন্যান্য সাংবাদিকরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।’
ওসি আরও জানান, ‘সিটি কর্পোরেশনের নতুন ভবনের সামনে সাংবাদিকরা অবস্থান শেষে চলে যাওয়ার সময় আবারও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মব তৈরি করে সাংবাদিকদের আটকে রাখে এবং হেনস্তা করে। এ ঘটনায় লিয়াকত আলী বাদল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমা, ট্রেড লাইসেন্স শাখার প্রধান মিজানুর রহমান মিজু, সাবেক কাউন্সিলর লিটন পারভেজসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।’


