গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
হঠাৎ তাদের আবির্ভাবে জনমনে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরবতা জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।
জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। সেদিন এক রাতেই শহর-মফস্বল ভরে যায় পোস্টারে। প্রশাসনের টনক নড়ে পোস্টার লাগানোর ঘণ্টাখানেক পর।
চৌমুহনী বাজারের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘এক বছর ধরে এই সংগঠনের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। হঠাৎ এক রাতে শহর ভরে গেল, অথচ প্রশাসন কিছুই জানল না। এটা কি বিশ্বাস করার মতো?”
পোস্টার লাগানোর ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের একটি অংশ জানায়, কারা লাগিয়েছে, তা শনাক্তের কাজ চলছে।
ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত তিনটি দল ঘটনার উৎস শনাক্তে কাজ করছে। অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে। ঢাকার নির্দেশ আছে কি না সেটিও যাচাই চলছে।
জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পুনর্বাসনে প্রশাসনের ভূমিকা কতদূর, সেটাই এখন প্রশ্ন। গুপ্ত লীগের কার্যক্রম আড়ালেই চলছে।’
স্থানীয় সাংবাদিক জামাল মিয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘রাতভর পোস্টার লাগানো হয়, অথচ প্রশাসনের ঘুম ভাঙে না। এটা কি অদক্ষতা নাকি পরিকল্পিত প্রশ্রয়?’
যদিও মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


