শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।
মামলায় শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনসহ মোট ৭৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা।
এর আগে, ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের স্ত্রী মারজিয়া বেগম বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় এ মামলাটি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে আপাতত আসামিদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করছি, যাদের এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে, যারা জড়িত নয়, তাদের কোনোভাবে হয়রানি করা হবে না। আসামি গ্রেপ্তার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, শনিবার বিকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের জন্য দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে রেজাউল করিম নিহত হন এবং উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এখনো উভয়দলের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝিনাইগাতী উপজেলার যুবদল নেতা আমজাদ হোসেনের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন জামায়াত নেতা তাহেরুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।


