প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৮টি মামলার রায় ও বিচারিক কার্যক্রমে জালিয়াতি, অনিয়ম বা অসংগতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আপিল বিভাগ।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৬ নভেম্বর দিন রেখেছে আদালত।
সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, লিখিত আদেশ পাওয়ার পর তারা তদন্ত শুরু করবেন।
১৮টি মামলার মধ্যে ১২টিতে আইনজীবী ছিলেন মো. কামাল হোসেন। তিনটি মামলায় আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। বাকি তিনটি মামলায় আইনজীবী ছিলেন মো. বোরহান খান, সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাজ্জাদ-উল-ইসলাম।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক। ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সৈয়দ মামুন মাহবুব।
আদেশের পর জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ১৮টি মামলার সব কটিই তদন্ত করা হবে। রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোতে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া যায় কি না, তা প্রতিবেদনে উঠে এলে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, বিচারকরা স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন, এটাই প্রত্যাশা। আগের মতো বিচারপ্রক্রিয়া চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে সরকারের বিপক্ষে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হলে গত ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ এসব মামলার রায় নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ তোলে। এরপর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মামলাগুলোর নথি পর্যালোচনা করে।


