শান্ত-মুশফিকের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা শুধুই বাংলাদেশের

শান্ত-মুশফিকের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা শুধুই বাংলাদেশের
সেঞ্চুরির পর সেজদা করছেন শান্ত, পাশে দাঁড়িয়ে মুশফিক। ছবি: ক্রিকইনফো
Advertisement
Advertisement

প্রবাথ জয়সূরিয়াকে ফাইন লেগে প্যাডেল স্কুপ করে পাঠিয়ে সিংগেলের জন্য ছুটছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নন স্ট্রাইক থেকে ছুটতে থাকা মুশফিকুর রহিম মাঝ উইকেটে থাকা অবস্থায়ই দুই হাত তুলে উদযাপন করে ফেললেন সতীর্থের সেঞ্চুরি। পরক্ষণেই অবশ্য ‘আয়! আয়!’ বলে দুই রানের জন্য শান্তকে ডাকলেন তিনি। শান্ত পেলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। 

এর প্রায় দশ ওভার পর গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দেখা একই দৃশ্য। তবে এবার সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক, তার সাথে উদযাপনে-উল্লাসে শান্ত। তাদের জোড়া সেঞ্চুরিতে সকালে মাত্র ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ, গল টেস্টের প্রথম দিন শেষ করল ২৯২/৩ স্কোরকার্ড নিয়ে। দুজন গড়েছেন চতুর্থ উইকেটে লংকানদের বিপক্ষে রেকর্ড ২৪৭ রানের জুটি। 

১৯ মাস পর মঙ্গলবার সেঞ্চুরি পেলেন শান্ত। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। আর মুশফিকের জন্য সেই সেঞ্চুরি এসেছে তীব্র দাবদাহের পর এক পশলা শান্তির বৃষ্টি হয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টে খেলেছিলেন ১৯১ রানের ইনিংস।

এরপর ১৩ ইনিংসে ছুঁতে পারেননি কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৪০ রানের। টানা ব্যর্থতায় বিশেষত জিম্বাবুয়ের  বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ৪ রান করে আউট হওয়াতে দলে জায়গা পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেসবের জবাব বেশ আড়ম্বরেই দিলেন মুশফিক, ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে।  

গল টেস্টের সকালের সেশনের নায়ক কিংবা চমক থারিন্দু হলেও দিনের বাকি অংশের গল্পের পুরোটা লিখেছেন শান্ত আর মুশফিক মিলে। সব্যসাচী লংকান স্পিনার থারিন্দু বল করতে পারেন দুই হাতেই। তাকে শুরুর দুই বাঁহাতি ব্যাটার যেখানে খেলতেই পারছিলেন না, সেখানে শান্ত এসেই তাকে বাউন্ডারি মেরে জবাবটা দিলেন যেন। মুশফিকও হাত খুলতে খুব বেশি সময় নেননি। ওয়ানডে স্টাইলের ব্যাটিংয়ে শুরুর ধসের প্রভাবটা কাটিয়ে উঠল বাংলাদেশ দুজনের ব্যাটে। তিন উইকেট হারালেও ৯০ রান তুলে লাঞ্চ ব্রেকে যায় বাংলাদেশ। 

আরও পড়ুন

দিনের দ্বিতীয় সেশনে আরো দৃঢ় ছিলেন দুজন। দুই প্রান্ত থেকে দুই স্পিনার বল করে গেলেও সুবিধা করতে পারেননি প্রবাথ কিংবা থারিন্দুর কেউ। থারিন্দু অবশ্য এক কাঠি এগিয়ে ছিলেন। ম্যাচ আপের কথা মাথায় রেখে স্ট্রাইকে বাঁহাতি শান্ত থাকলে বল করেছেন ডান হাতে, আর মুশফিক থাকলে হয়ে গেছেন বাঁহাতি স্পিনার। তবে এত বৈচিত্র্য নিয়েও আজ টলাতে পারেননি তাদের কাউকেই। আর শেষ সেশনে গলের পড়ন্ত আলোয় তো সেঞ্চুরির আনন্দেই মাতলেন দুজন। 

দিন শেষে ১৪ চার ও এক ছক্কায় ২৬০ বলে ১৩৬* শান্তর। ১৮৬ বলে ১০৫* মুশফিকের, চার মেরেছেন মাত্র পাঁচটা। 

এর আগে দিনের শুরুতে গলের আকাশে সূর্য গনগনে মুডে যাওয়ার আগেই এলোমেলো হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। ব্যাটিং সহায়ক উইকেট দেখে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। অবশ্য বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারের কল্যাণে শান্তর সেই সিদ্ধান্ত ততক্ষণে ‘ব্যাকফায়ার’ করার দশা। প্রথম সেশনের ১৭ ওভারের মধ্যেই ওপেনার বিজয় ফিরলেন ১০ বল খেলে শূন্যতে।

আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে হাঁটা ধরলেন অভিষিক্ত স্পিনার থারিন্দু রথনায়েকের বলে। উইকেটে থিতু হয়েও থারিন্দুকে সামলাতে পারেননি অভিজ্ঞ মুমিনুল। এই অফস্পিনারকেই উইকেট দিয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর