রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা পরকীয়া প্রেমিকার হতে খুন হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিউটি আক্তার নামে এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে বনানী থানার মহাখালী টিভি গেট এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় বাড়িটির মালিক তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়ে।
নিহত রেল কর্মকর্তার নাম মামুন মিয়া (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিহাটি গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে।
বাড়ির মালিক সুমন জানান, শনিবার দুপুরে বাড়িটির ৩য় তলায় চিৎকার শুনে তিনি গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন ওই যুবক। তার পেটে দুটি ছুরিকাঘাত ও পুরুষাঙ্গ কাটা। তখন তিনি দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে তাকে বিকালে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন মামুনের চাচা মুকছেদ আলী ভুইয়া। তিনি জানান, মোবাইল ফোনে জানতে পারেন, মামুন ঢাকা মেডিকেলে আছেন। এরপর তিনি হাসপাতালে এসে তার মরদহে দেখতে পান। তবে কি ঘটনা ঘটেছে, তা কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।
মামুনের স্ত্রী শাহিনা আক্তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি গ্রামে থাকেন। চলতি মাসের এক তারিখে মামুন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা রেলওয়েতে যোগ দেন। ঢাকায় থাকতেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) একেএম মঈন উদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে বিউটি নামে এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যতটুকু জানা গেছে, ওই বাসাটি বিউটি আক্তারের। মামুন আজ সকালেই সেই বাসায় যান। তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক নাকি অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। জানার চেষ্টা চলছে।
বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক হাসান জানান, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে বিউটি আক্তার নামে ওই তরুণীকে আটক করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিউটি ওই বাসাটি ভাড়া নেন। আর আজ সকালে সেখানে গিয়েছিলেন মামুন। দুজনই বিবাহিত। তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তবে কেনো তাকে হত্যা করেছে, সেটি জানার চেষ্টা চলছে।


