মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এরই মধ্যে নকলে জড়িত ৪ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, এছাড়া ২ শিক্ষককে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলা ও মারধরের শিকার হন। এছাড়া তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলার শিকার বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ গাংনী থানায় রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
শুক্রবার কলেজে একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএবিএসএস প্রথম বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আহত সাংবাদিকরা।
হামলার ঘটনার পর সাংবাদিক রাব্বি আহম্মেদ জানান, ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষায় লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে যান। সেখানে গিয়ে তারা পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দিতে দেখতে পান। বিষয়টির ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ দুই শিক্ষক তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত সাংবাদিক তারিক বলেন, তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান, সকল পরীক্ষার্থী বই দেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই শিক্ষক তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাদের ভিডিও ধারণ করা দুটি মোবাইল ফোন এবং নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদেরকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে আসেন দুই সাংবাদিক।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় এসে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, হামলার কারণ কী এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নেওয়া হয়েছে কি না, সবকিছুই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


