মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোলে শট নেওয়ার চেষ্টায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

শুরুর পেনাল্টি মিসের হতাশা উবে গেল দারুণ এক মহাকাব্যে। প্রথম আধা ঘণ্টায় তিন-তিনটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করায় গ্যালারিতে যখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ, ঠিক তখন জাদুকরী স্পর্শে দলকে পথ দেখালেন অধিনায়ক। লিওনেল মেসির রেকর্ডগড়া জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব অর্থাৎ শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

সোমবার রাতে ডালাস কাউবয়েজের কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৭০ হাজার ৬৪৯ জন দর্শকের সামনে রূপকথার এক ম্যাচ উপহার দিলেন মেসি। ৩৯তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে এবং দেশের মাটিতে বাবার গুরুতর অসুস্থতার চরম উদ্বেগের মাঝেই এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।

ম্যাচের ৯ম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শুরুতেই রেকর্ড ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন মেসি। তার বাম পায়ের শটটি পোস্টের বাইরে চলে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। বিশ্বকাপের মূল সময়ে নেওয়া ৭টি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল মেসির ৩ নম্বর মিস, যার ফলে টানা তিনটি বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও তার নামের পাশে জুড়ল।

তবে সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ইতিহাস নতুন করে লেখেন মেসি। থিয়াগো আলমাদার ছেড়ে দেওয়া বল ধরে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নিখুঁত শটে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান তিনি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৭ গোল নিয়ে এককভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পরে ম্যাচে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটিও করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ম্যাচের শুরুতেই লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্টেফান পশের ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের মাধ্যমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত এসেছিল।

এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে ফ্রান্সের জাঁ ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহোর পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি ছুঁয়েছেন মেসি। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর রেকর্ড ২৮তম ম্যাচ।

কাকতালীয়ভাবে, গত ১২ জুন জার্মান সংবাদপত্র জুদডয়েচে জাইতুংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লোসে নিজেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এবারের টুর্নামেন্টে তার রেকর্ডটি ভেঙে যাবে এবং মেসি এটি ভাঙলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন।

ফুটবল মাঠের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পেছনে কাজ করছে মেসির এক ব্যক্তিগত মানসিক লড়াই। তার ৬৮ বছর বয়সী বাবা ও আজীবন এজেন্ট হোর্হে মেসি বর্তমানে একটি অনির্ধারিত অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন। আলজেরিয়ার সঙ্গে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পরও মেসিকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখা গিয়েছিল। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকারও করেছিলেন, মাঠের বাইরের এই কঠিন পরিস্থিতির কারণেই তার চোখ দিয়ে অশ্রু চলে এসেছিল। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন এলএমটেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad