প্রাথমিক স্তর থেকেই মেয়েশিশুদের সমান অধিকার ও নেতৃত্বের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এছাড়াও শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিসরে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, জেন্ডার সমতা, লাইফ স্কিল, ডিজিটাল সেফটি ও কমিউনিটি এঙ্গেজমেন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ‘কিশোরী ও তরুণীদের নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক ডিজিটাল সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ে সেমিনারটি আয়োজন করেছে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও জাগো ফাউন্ডেশন।
এসময় ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু নারী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না, বরং শৈশব থেকে মেয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় সেই সুযোগগুলো নিশ্চিত করতে হবে।’
‘মেয়েরা যখন খেলাধুলায় বড় সাফল্য অর্জন করে, তখন সবাই হাততালি দেয়। কিন্তু নিজেদের স্কুল-কলেজে মেয়েদের খেলাধুলা করলে তখন অনেকে ভ্রু কুঁচকায়। মেয়েদের ব্যাপারে এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ থেকে বের হয়ে আসতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
এছাড়াও শিশুদের বেড়ে ওঠার পেছনে পিতা-মাতার বাইরেও ‘কমিউনিটি’কে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে শিশুরা স্কুল, খেলার মাঠ ও পাড়ার মানুষের তত্ত্বাবধানে বড় হতো, এখন সেই সামাজিক সম্পৃক্ততা কমে গেছে। কমিউনিটি এনগেজমেন্ট কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই বিষয়ে ভাবতে হবে।’
এমনকি প্রাথমিক স্তরে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সফল মডেল নিয়ে শ্রীলঙ্কা, স্লোভেনিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ।
এসময় প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও ডিজিটাল মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত এবং ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধের জন্য কার্যকর নীতিমালা ও আইনপ্রণয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।


