মাধ্যমিক শিক্ষা দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণ কাঠামোর ঘাটতি ছিল, যা এখন পূরণ হচ্ছে।’
শনিবার ফরিদপুরে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের নবীন শিক্ষকদের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিদর্শন উপলক্ষে টিচার্স ট্রেনিং কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রজেক্ট।
সরকারের সীমিত সম্পদ, আর্থিক সংকট এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার অব্যাহত আছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকলেও সরকার নিয়মিত ঋণ পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা প্রশিক্ষণসহ বহু উদ্যোগ হাতে নিয়েছি।’
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে সি আর আবরার বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষকরা কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া প্রকৃত মূল্য সংযোজন সম্ভব নয়।’
সমাজে শিক্ষকের নৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও নাগরিক চেতনায় গড়ে তুলতে।’
এ সময় তিনি পেশাগত জীবনে রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মূল্যবোধের চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
শেষে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকার এ উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।


